• জাতীয়

    যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে শহীদ ইকবালের মনোনয়নের দাবীতে বিএনপি বিক্ষোভ

      প্রতিনিধি 26 December 2025 , 5:41:11

     

    মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি:

    যশোর-৫( মণিরামপুর) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শুক্রবার বেলা ৪টায় উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেয়। পৌর বিএনপির সভাপতি খায়রুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পৌর বিএনপি সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সহসভাপতি সন্তোষ স্বর, ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক খান শফিয়ার রহমানসহ প্রমুখ।

    উল্লেখিত ইতোপূর্বে এ আসনটিতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনকে ৪ ডিসেম্বর দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষনা করা হয়। ২০দিনপর গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এ আসনটি বিএনপির শরীক দল জমিয়াত উলামায়ে ইসলামের মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেনকে পরিবর্তে করে জমিয়াত উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা রশিদ বিন ওয়াক্কাসের নাম ঘোষনা করেন। এ ঘোষনার পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরা বিদ্রোহ করে উপজেলা সদরসহ মণিরামপুর জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেয়।

    এ সময়ে বক্তব্যে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিগত ৪০ বছর শহীদ ইকবাল দলের হাল ধরে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। বিএনপির কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে শরীকদের আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি করার অপরাধে মণিরামপুরে যে ১৩ জন বিএনপির ভাইকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে ক্রসফায়ার এবং নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে করেছেন পঙ্গুত্ববরণ। বিএনপি করার অপরাধে যারা অজস্র মামলায় জর্জরিত হয়ে যারা ভিটে-মাটি, ব্যবসা, সংসার হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন-তাদের কাছে ভোট চাইতে যাবে কে? বিএনপি করার অপরাধে যারা বিনা অপরাধে দিনের পর দিন জেলের কষ্ট উপভোগ করেছেন, তাদের কাছে গিয়ে ভোট চাইবে কে?

    নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নামের যে একটা দল আছে সেটা দেশের বেশির ভাগ মানুষ-ই জানে না। কারণ বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে মণিরামপুরে এই দলটির কোন ভূমিকাই ছিলো না। তাদের ভূমিকা শুধু গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে। কিন্তু অ্যাড. শহীদ ইকবাল হোসেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কখনোই রাজপথ ছেড়ে যাননি, শতাধিক মামলার আসামী করেও যাকে দমানো যায়নি বা বারবার তাকে দূর্বল করার জন্য প্রায় ২৩ বার তার বাভবনে হামলা করা হয়েছে, তার নিজের ছোট ভাই কে প্রকাশ্যে রাস্তায় নির্মম নির্যাতন করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে ফেলে রেখে গেছেন, তারপরও যিনি দলীয় প্রতিটি প্রোগ্রাম সফল করেছেন। মনিরামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান, পরবর্তীতে বারবার নির্বাচিত মণিরামপুর পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত ১৭ বছর ধরে যিনি

    মণিরামপুরের একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে ছুটে চলেছেন ক্লান্তিহীনভাবে রাতদিন। মণিরামপুরের সর্বস্তরের মানুষের সাথে যার নিবিড় সম্পর্কের কারণে আপামর গণমানুষের নেতায় পরিনত হয়েছেন-তিনি একমাত্র শহিদ ইকবাল হোসেন। তাকে দলীয় প্রতীক ধানের শীষের মনোনয়ন ফিরিয়ে দিলে এই আসনটি বিএনপির প্রার্থী জয়ী হবে। অন্যথায় আসনটি হাত ছাড়া হবে। দল তৃণমূল নেতাকর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্থ হবে তারা বক্তৃতায় বলেন।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :