প্রতিনিধি 24 March 2026 , 6:28:10
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় সরকারি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে ব্যক্তিগত পিকনিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ২৩ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় যুবক, ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবীসহ প্রায় শতাধিক মানুষের একটি পিকনিক বাগানে আয়োজনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থানান্তর করে অনুষ্ঠিত হয় “জগদীশপুর বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” প্রাঙ্গণে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলের ভেতরেই ছিল খাবারের আয়োজন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে পরিবেশন—সব কিছুই চলে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে। স্কুলের চারপাশজুড়ে ছিল জমকালো পিকনিকের পরিবেশ, যা অনেকটা একটি বিনোদনস্থলের আবহ তৈরি করে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। পিকনিক শেষে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এমন কোনো অনুমতির বিষয়টি জানা যায়নি। তাদের ভাষ্য, “বিদ্যালয়ের ভেতরের পরিবেশ সেদিন ছিল যেন একটি খাবারের হোটেলের মতো। সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কিভাবে এবং কার অনুমতিতে একটি সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন করা হলো। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক অমল সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “স্থানীয় কিছু ব্যক্তি বাগানে পিকনিক করার জন্য এসেছিলেন। পরে তারা আমার কাছে কিছু সময়ের জন্য স্কুলের চাবি চান। রান্নাবান্না শেষে খাবার খেয়ে চাবি ফেরত দেওয়ার কথা বলায় আমি তাদের সেই সুযোগ দিয়েছি।” তবে অভিযোগ রয়েছে, চাবি দেওয়ার পর পুরো সময়ই প্রধান শিক্ষক ওই পিকনিকে উপস্থিত ছিলেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা দাবি করেন, “এটি মূলত প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগেই স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল।” বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম জাকিরুল হাসান বলেন, “এই পিকনিকের বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনাটি বর্তমানে মাধবপুরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

















