• সারাদেশ

    মুক্তিযুদ্ধ না করেই ‘মুক্তিযোদ্ধা’ বনে যাওয়া গনেশ চন্দ্র কর্মকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সনদ বাতিলের দাবি”

      প্রতিনিধি 22 October 2025 , 2:03:39

    নিজস্ব প্রতিনিধি :
    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কোনো প্রকার অংশগ্রহণ না করেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দর গ্রামের মৃত রাধাগোবিন্দ কর্মকার ও মৃত বীনা পানি কর্মকারের পুত্র গনেশ চন্দ্র কর্মকার। সম্প্রতি এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের সনদ বাতিলের আবেদন করেছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ইমতিয়াজ কবীর।
    ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর মহাপরিচালকের বরাবর তিনি লিখিতভাবে আবেদন দাখিল করেন (স্মারক নং-৯৪৯)। অভিযোগে বলা হয়েছে, গনেশ চন্দ্র কর্মকার মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশে অবস্থান করলেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গনেশ চন্দ্র কর্মকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সুযোগে মুক্তিযুদ্ধ না করেও বনে গেল মুক্তিযোদ্ধা এবং সেই ভুয়া পরিচয়ের সুযোগে বহু বছর ধরে সরকারি ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটার সুবিধা নিয়ে মৃত গনেশ চন্দ্রের ছেলে অরূপ কর্মকার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে এবং মেয়ে ইলোরা কর্মকার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) পদে নিয়োগ লাভ করেন। বর্তমানে দুজনই দাপটের সঙ্গে কর্মরত আছেন।
    অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকা মহাপরিচালক বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে একটি নোটিশ জারি করে উভয় পক্ষকে ৩০ সেপ্টেম্বর উপস্থিত হতে নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশ অনুযায়ী অভিযোগকারী ইমতিয়াজ কবীর সকল প্রমাণপত্রসহ হাজির হলেও অভিযুক্ত গনেশ চন্দ্র কর্মকারের পক্ষে তার ছেলে অরূপ কর্মকার উপস্থিত হন আংশিক কাগজপত্র নিয়ে । এবং কোলে তিন থেকে চার বছরের একটি শিশু নিয়ে আসেন। শুনানিতে অরূপ কর্মকারকে তার পিতার মুক্তিযুদ্ধকালীন কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্য জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি; বরং পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করেন বলে জানা গেছে।
    অভিযোগের সূত্র ধরে জানা যায়, গনেশ চন্দ্র কর্মকারের মুক্তিযোদ্ধা নম্বর ০১৫৬০০০২৩৮২। আশ্চর্যের বিষয়, একই গেজেট (নং ৭৬৮)-এ ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুটি পৃথক নামে প্রকাশিত হয়েছে, একটিতে দনেশ চন্দ্র কর্মকার, অন্যটিতে গনেশ চন্দ্র কর্মকার। একটিতে পিতার নাম লেখা ‘রাধা গোবিন্দ কর্মকার’, অপরটিতে ‘রাধা গবিন্দ কর্মকার’। এমনকি তার স্থায়ী ঠিকানাও দুই রকম, একটিতে মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম, অন্যটিতে ঢাকা মহানগরীর সূত্রাপুর থানা এলাকার ৩ নং পূর্ণচন্দ্র ব্যানার্জি লেন, ডাক কোড ১১০০।গত ০৩/০৬/২০২০ ইং তারিখে গনেশ চন্দ্র কর্মকার মারা গেলে তার নামে দুটি মৃত্যু সনদ পাওয়া যায় প্রথমটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন জোন-০৪ তে নিবন্ধন হয় ১৪/০৭/২০২০ইং অপরটি মানিকগঞ্জ সাটুরিয়া উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে মৃত্যু সনদ নিবন্ধনের তারিখ ১১/০৭/২০২০ ইং যাহা ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনের পরিপন্থী কাজ।
    প্রশ্ন উঠেছে, একই ব্যক্তির দুটি নাম, দুটি স্থায়ী ঠিকানা ও দুটি মৃত্যু সনদ এবং দুটি গেজেট কিভাবে সম্ভব? সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের আশ্রয়েই গনেশ চন্দ্র কর্মকার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় অর্জন করেছেন। এই ভুয়া পরিচয়ের বিরুদ্ধে একাধিক জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় ইতোমধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, গনেশ চন্দ্র কর্মকার কখনোই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, আর দনেশ চন্দ্র কর্মকার নামে দরগ্রামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বই ছিল না। এলাকাবাসীসহ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা গনেশ চন্দ্র কর্মকারের সনদ অবিলম্বে বাতিল, তার সন্তানদের মুক্তিযোদ্ধা পোষ্য কোটা বাতিল, সরকারি ভাতা বন্ধ এবং বিগত বছরগুলোতে প্রাপ্ত সব অবৈধ সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে অভিযোগকারী ইমতিয়াজ কবীর জানিয়েছেন, জামুকা কর্তৃপক্ষের নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই গনেশ চন্দ্র কর্মকারের ছেলে অরূপ কর্মকার তাকে বারবার ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এই ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জামুকা সচিবালয়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে গনেশ চন্দ্র কর্মকার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতারণার মামলা হতে পারে বলে সূত্রে জানা গেছে।
    একাধিক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার কাহিনি শিগগিরই প্রকাশ্যে আসছে। সেইসব ঘটনা প্রকাশ পাবে পরবর্তী সংখ্যায়।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :