প্রতিনিধি 27 January 2026 , 7:31:44
বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন:


টেকনাফ সদর ইউনিয়ন হাতিয়ার ঘোনা এলাকায় দিনের পর দিন প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ মাটি উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী বশর হাজির নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই কৃষিজমি ও ফসলি এলাকার মাটি কেটে নিচ্ছে। এর সরাসরি শিকার হচ্ছেন পানচাষিরা—ইতোমধ্যে লক্ষাধিক টাকার পান বরজ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কোনো ইজারা, পরিবেশ ছাড়পত্র কিংবা প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই ভেকু ও ট্রাক ব্যবহার করে গভীর গর্ত তৈরি করা হচ্ছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে পড়ছে এবং আশপাশের পান বরজ একের পর এক ধসে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক পানচাষি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। আমরা গরিব মানুষ—বাঁচার জন্যই পান চাষ করি। এখন সেই পথটাও বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।” স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের চোখের সামনে এত বড় অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হয়রানির শিকার হতে হয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি উত্তোলন চলতে থাকলে শুধু পান বরজ নয়—ভবিষ্যতে পুরো এলাকার কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত বশর হাজির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি “খতিয়ে দেখার আশ্বাস” দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এলাকাবাসীর দাবি— অবিলম্বে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ব্যাপারে সহকারী কমিশনার ভূমি টেকনাফের সহযোগিতা কামনা করছে এলাকাবাসী।

















