প্রতিনিধি 2 January 2026 , 3:29:23


মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মাধবপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা মো. আলমগীরের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই চক্রটি পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, চক্রটির সদস্যরা দাবি করে—স্বৈরাচার সরকারের সময়কার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে। এসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করানো হবে—এমন ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। সামাজিক সম্মান ও প্রশাসনিক হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই বাধ্য হয়ে গোপনে টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ী। সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি বা ভিডিও পোস্ট করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি মব তৈরির অপচেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দিউড়া ইউনিয়নের এক ব্যবসায়ী জানান, আলমগীর তার কাছে চাঁদা দাবি করে বলেন—টাকা না দিলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হবে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হবে। ওই ব্যবসায়ী বলেন, ওই নেতা তার আত্মীয় হওয়ায় ছবি থাকতেই পারে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আলমগীর সেই ছবি পোস্ট করে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের দাবি তোলে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ওষুধ ব্যবসায়ী শ্রীবাস সরকার। তিনি জানান, উপজেলার সুন্দাদিল গ্রামের আব্দুল জাহেরের ছেলে সালাউদ্দিন আহমেদ রনি তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রনির মামা মো. আলমগীর এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছবি এডিট করে ফেসবুকে পোস্ট করেন এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রচারণা চালান। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলমগীর নিজেই আওয়ামী লীগের কর্মী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর সঙ্গে তার ছবি রয়েছে।
এ বিষয়ে শেখ শাহ আলম নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর সঙ্গে আলমগীরের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “আমরা যদি আওয়ামী লীগের দোসর হই, তাহলে আলমগীরও আওয়ামী লীগের দোসর।” তিনি দাবি করেন, ২০১৮ সালে মাহবুব আলীর হাত ধরেই আলমগীর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এখন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, আলমগীরের কাছে চোরাই তিনটি সিএনজি ও একটি মোটরসাইকেল রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধবপুর বাজারের এক হিন্দু ব্যবসায়ী জানান, আলমগীর বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করেন এবং সেই টাকায় সন্ধ্যার পর মাধবপুর পলিটেকনিক্যাল স্কুল এলাকার আশপাশে ইয়াবা সেবন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ লোকমুখে শোনা যাচ্ছে। তবে প্রকাশ্যে কেউ বলতে রাজি নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে আমরা আশা করি। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যারা অপরাধে জড়িত, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযোগের আঙ্গুল উঠা মো. আলমগীরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

















