প্রতিনিধি 6 March 2026 , 9:34:53
উত্তরার আবাসিক ভবনে গ্যাস বিস্ফোরণের তাণ্ডব: ধ্বংসস্তূপে অন্তঃসত্ত্বাসহ দগ্ধ ১০, সাতজনের অবস্থা সংকটাপন্ন নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ রাজধানীর উত্তরায় সাতসকালে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সাক্ষী হলো এলাকাবাসী। ১০ নম্বর সেক্টরের কামারপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে জমাটবদ্ধ গ্যাস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে একই পরিবারের শিশু ও নারীসহ অন্তত ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, বহুতল ভবনটির দ্বিতীয় তলার দেয়াল ধসে রাস্তায় ছিটকে পড়েছে এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র চুরমার হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ঘটনার বিবরণ ও সময় আজ শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে যখন নগরবাসী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কামারপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন ১০ নম্বর রোডের এলাকাটি। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শব্দটা এতই ভয়াবহ ছিল যে মনে হয়েছিল কোনো বড় ধরনের বোমা হামলা হয়েছে। বিস্ফোরণটি ঘটে আবুল কালামের মালিকানাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই ভবনের দ্বিতীয় তলার বাইরের দেয়ালগুলো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে নিচে পড়ে এবং জানালার কাঁচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভেতর থেকে দগ্ধদের করুণ আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। আহতদের অবস্থা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন সাতজন বিস্ফোরণের খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত ১০ জনকেই রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে রয়েছেন: সোনিয়া আক্তার (২৫): অন্তঃসত্ত্বা এই নারীর শরীরের ১০০ শতাংশই দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক। এনায়েত (৩২): দুবাই প্রবাসী এনায়েত গত কয়েকদিন আগেই দেশে ফিরেছিলেন। তার শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া শিশু রোজা (৩), জুনায়েদ (১৩), রুবেল (৩২), রিয়া (২৭), হাবিব (৩০), দুলারা (২৮), আয়েশা (১৯) এবং বাড়ির মালিক আবুল কালাম (৩৫) ১২ শতাংশ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ শরীর নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিস্ফোরণের নেপথ্যে ‘সাইলেন্ট কিলার’ গ্যাস প্রাথমিক তদন্ত শেষে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ধারণা করছে, পাইপলাইনের লিকেজ অথবা গ্যাস সিলিন্ডারের ছিদ্র থেকে সারারাত ধরে ঘরে গ্যাস জমে ছিল। ভোরবেলা কেউ পানি গরম করতে বা চা বানাতে গিয়ে চুলা জ্বালালে অথবা বৈদ্যুতিক সুইচ অন করলে সেই স্পার্ক থেকে ঘরের বাতাসে মিশে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে, গ্যাস জমাট বেঁধে ঘরটি একটি ‘বিস্ফোরক চেম্বারে’ পরিণত হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য ভবনের চতুর্থ তলার বাসিন্দা সাজেদ মাতব্বর বলেন, “ভোরে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়েছিল আমাদের বিল্ডিং ধসে পড়ছে। নিচতলায় নেমে দেখি দ্বিতীয় তলার কোনো দেয়াল নেই, ভেতরে শুধু রক্ত আর পোড়া মানুষের বীভৎস চেহারা। আমরা দেরি না করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে জানাই এবং নিজেদের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাই।” জরুরি সতর্কতা বর্তমান গ্যাস সংকটের প্রেক্ষাপটে পাইপলাইন বা সিলিন্ডার চেক না করে চুলা জ্বালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরে গ্যাসের গন্ধ পেলে কোনোভাবেই বৈদ্যুতিক সুইচ বা দেশলাই জ্বালাবেন না। দ্রুত জানালা-কবাট খুলে দিন এবং সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষকে খবর দিন।

















