প্রতিনিধি 10 February 2026 , 8:37:05
এম এ কাদের, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) সংসদীয় আসনে ইসলামী ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মাওলানা মো. গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটারদের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে তিনি হলফনামায় শ্বশুরবাড়ির প্রকৃত ঠিকানা এড়িয়ে ভিন্ন একটি ঠিকানা উল্লেখ করেছেন। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর প্রকৃত শ্বশুরবাড়ি মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) এলাকায়। প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি ওই এলাকার একটি পরিচিত পীর পরিবারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন—এ তথ্য স্থানীয়ভাবে বহুল পরিচিত। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া আয়–ব্যয়ের বিবরণীতে শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলার কাশিপুর গ্রাম। উল্লেখ্য, মাধবপুর ও চুনারুঘাট—উভয় উপজেলাতেই ‘কাশিপুর’ নামে দুটি ভিন্ন গ্রাম রয়েছে। নামের মিল থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা। এই বিষয়টি ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। এলাকাবাসীর একটি অংশের মতে, এটি কেবল অনিচ্ছাকৃত কাগুজে ভুল নয়; বরং নির্বাচনী হিসাব–নিকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় থাকতে পারে। বিশেষ করে যেসব ভোটার প্রার্থীর পারিবারিক পরিচয় ও সামাজিক সংযোগকে গুরুত্ব দেন, তাদের মধ্যে বিষয়টি সন্দেহ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মাধবপুর উপজেলার কাশিপুর (বেঙ্গাডুবা) এলাকার বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, “আমরা সবাই জানি মাওলানা গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর শ্বশুরবাড়ি আমাদের এলাকাতেই। কিন্তু ভিন্ন ঠিকানা ব্যবহারের খবর শুনে হতাশ হয়েছি। একজন ধর্মীয় বক্তা ও আলেমের কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা প্রত্যাশিত ছিল।” এ বিষয়ে প্রখ্যাত পীর যুবায়ের কামাল বলেন, “রাজনীতিতে অংশগ্রহণ মানে শুধু ভোট চাওয়া নয়, বরং সত্য ও নৈতিকতার মানদণ্ড বজায় রাখাও জরুরি। ঠিকানা সংক্রান্ত এমন অস্পষ্টতা মানুষের আস্থায় চিড় ধরাতে পারে।” এ প্রসঙ্গে এমপি প্রার্থী মাওলানা মো. গিয়াসউদ্দিন তাহেরীর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

















