• জাতীয়

    হবিগঞ্জ–৪ আসনে নির্বাচনী উৎসব ধানের শীষে ঐক্যবদ্ধ চা শ্রমিকরা

      প্রতিনিধি 7 February 2026 , 2:43:42

    মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

    আর মাত্র পাঁচ দিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী মাঠ। এ আসনের ২৩টি চা বাগানে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর চা শ্রমিকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উদ্দীপনা। এবারের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে—চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের ধারাবাহিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও প্রতিশ্রুতিতে চা বাগান এলাকাজুড়ে নতুন রাজনৈতিক জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রচারণার মূল লক্ষ্য হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। স্থানীয় চা শ্রমিকরা জানান, অতীতের কোনো নির্বাচনে চা বাগানগুলোতে ধানের শীষের পক্ষে এত ব্যাপক সাড়া দেখা যায়নি। এবারের প্রচারণায় প্রার্থী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরাসরি শ্রমিকদের পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যা শুনেছেন এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে শ্রমিকদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। শ্রমিকদের মতে, আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ ফয়সল ও তাঁর দুই ছেলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চা বাগানের দুর্গম এলাকাগুলোতেও নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়েছেন। শীত ও উঁচু–নিচু পথ উপেক্ষা করে শ্রমিকদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন নির্বাচনী বার্তা। এই সরাসরি যোগাযোগ চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক তরুণ ভোটার জানিয়েছেন, তারা স্থায়ী কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ চান। সরেজমিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে কথা হয় নারী শ্রমিক শেফালি সাঁওতালের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল এবং তাঁর দুই ছেলে—সৈয়দ শাফকাত ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ আমাদের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এসে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। তারা আমাদের কথা মন দিয়ে শুনেছেন। তাই আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে ধানের শীষের পক্ষে একতাবদ্ধ হয়েছি।” চানপুর চা বাগানের নারী নেত্রী খায়রুন আক্তার বলেন, “এবার ধানের শীষের প্রচারণায় দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণেই শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আগামী রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি ২৪টি চা বাগানের শ্রমিকরা সুরমা চা বাগানের ১০ নম্বর মাঠে একত্রিত হয়ে সভা করবেন এবং তাদের চূড়ান্ত অবস্থান ঘোষণা করবেন। আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে নেচে–গেয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে সৈয়দ মোঃ ফয়সলকে সংসদে পাঠাতে চাই, যেন তিনি অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর হতে পারেন।” শনিবার সকালে নোয়াপাড়া চা বাগানে গণসংযোগকালে চা শ্রমিক কাণ্ডারি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চা শ্রমিকদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হয়নি। তারা এখনও দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেঁচে আছেন। অথচ তারা অত্যন্ত পরিশ্রমী। সামান্য সহযোগিতা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে তারা দেশের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত হতে পারেন। বিএনপি এই আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করলে চা শ্রমিকদের সার্বিক জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :