• অন্যান্য

    কোটালীপাড়ায় ৩২১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

      প্রতিনিধি 17 September 2025 , 4:22:03

     ইস্রাফিল খান, গোপালগঞ্জ (জেলা) প্রতিনিধি;

    শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চলছে সাজসজ্জা আর উৎসবের আমেজ। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ বছর কোটালীপাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৩২১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সূচনা হলেও মূল পূজা শুরু হবে ২৮ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে। আর ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচদিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি হবে। এবার উপজেলার কলাবাড়ি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে—৭৭টি। এরপর রামশীল ইউনিয়নে ৫৭টি, সাদুল্লাপুরে ৫০টি, রাধাগঞ্জে ২৮টি, কান্দিতে ২০টি, কুশলায় ১২টি, হিরণে ১৪টি, আমতলীতে ১০টি, শুয়াগ্রামে ১৪টি, পিঞ্জুরীতে ১৪টি, বান্ধাবাড়িতে ৯টি এবং পৌরসভায় ১৬টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি চলছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মণ্ডপে কারিগররা প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোথাও প্রতিমার মাটির কাজ শেষ হয়ে রঙের কাজ চলছে, আবার কোথাও মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। রাজাপুর হালদারবাড়ি দুর্গামন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত ছিলেন কারিগর জয়দেব পাল। তিনি জানান, এ বছর তিনি ১০টি মন্দিরের প্রতিমা তৈরির দায়িত্ব নিয়েছেন। ৪০ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত আছেন তিনি। দিনরাত পরিশ্রম করে ২৭ সেপ্টেম্বর বোধনের আগেই সব মণ্ডপের প্রতিমার কাজ শেষ করবেন বলে আশা করছেন। তারাশী রায়বাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ গতবারের তুলনায় বেশি হচ্ছে। প্রকারভেদে কারিগররা মণ্ডপপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। প্রতিমার সাজসজ্জার জন্যও অতিরিক্ত ১০–১৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে একেকটি মণ্ডপে খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কোটালীপাড়া শাখার সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কোটালীপাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছি। কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যেই উপজেলার সব মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, প্রতিটি মণ্ডপেই নিজস্ব ব্যবস্থায় সিসি ক্যামেরা থাকবে। পূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় সুধীজনদের নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। উৎসবকে আরও আনন্দমুখর করতে প্রতিটি ইউনিয়নে শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ নির্বাচন করে পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ৫০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :