মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ৯নং নোয়াপাড়া ইউনিয়নের করড়া গ্রামের চৌধুরীপাড়ায় চাঁদা না দেওয়ার জেরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় শামীম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এতে শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই স্থানীয় বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানায় কর্মরত। রাস্তা বন্ধ থাকায় তাদের কর্মস্থলে যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শামীম চৌধুরী এর আগেও অন্তত পাঁচবার একইভাবে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া চৌধুরী বলেন, “আমরা আদালতে ১৪৭ ধারায় মামলা করেছি। শামীম পুলিশকে ম্যানেজ করে রাস্তার ব্যারিকেড সরাচ্ছে না। সে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছি।” মাধবপুর থানার উপপরিদর্শক ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন বিট অফিসার পাভেল আহমেদ বলেন, “বিধি মোতাবেক উভয় পক্ষকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টির নিষ্পত্তির এখতিয়ার বিজ্ঞ আদালতের।” স্থানীয় একাধিক গার্মেন্টস কর্মী অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সময়মতো কাজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গার্মেন্টস কর্মী সালমা বেগম বলেন, “রাস্তা বন্ধ থাকায় আমাদের কাজে যাওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সময়মতো অফিসে পৌঁছাতে পারছি না। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।” স্থানীয় বাসিন্দা মো. শিপন চৌধুরী বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছে। হঠাৎ করে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাস্তার মাঝখানে টিনের বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়।” তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শামীম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আতাউল মোস্তফা সুহেল বলেন, “তিনি প্রথমে আমাদের সালিশ মানলেও পরে আবার পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন। যদি রাস্তা বন্ধ করে থাকে, তবে বিষয়টি নিয়ে দ্রুত আবার বসা হবে। সবার জন্য উন্মুক্ত রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা কাম্য নয়।” মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “পথ বা রাস্তা বন্ধ করার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”