• জাতীয়

    চুনারুঘাটে পরিকল্পিত অপপ্রচার : ফাঁদে পা দেয়নি সচেতন ভোটাররা

      প্রতিনিধি 1 February 2026 , 3:30:56

    এম এ কাদের, (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনের নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত ও ঘোলাটে করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভোটার, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের দাবি—একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কিছু সমর্থক রাজনৈতিক সহানুভূতি আদায়ের লক্ষ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব, মিথ্যা ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে এসব অপপ্রচারে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত না হয়ে বরং আগের চেয়ে বেশি সচেতন ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও, ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়—নির্দিষ্ট এক প্রার্থী ও তার সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ইসলামী সুন্নি ফ্রন্টের আলোচিত বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরিকে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অপপ্রচার চালানো হয়। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। চুনারুঘাট উপজেলার সাঁটিয়াজুড়ি ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল হক বলেন, রোববার দুপুরে ওই এলাকায় একটি প্রার্থীর পক্ষে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চলছিল। এ সময় গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও তার অনুসারীরা নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সেখানে উপস্থিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তিনি দাবি করেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটি নাটক, যার উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর কর্মী বা সমর্থক তাহেরিকে বাধা দেয়নি। চুনারুঘাটের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অ্যাক্টিভিস্ট রিপন বলেন, “শুরুর দিকে আমরাও ভেবেছিলাম হয়তো সত্যিই কোনো বাধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে দেখি—ভিডিওগুলো সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড মূলত ভোটের মাঠ অশান্ত করার অপচেষ্টা।” স্থানীয় তরুণ ভোটার মোশারফ বলেন, “কিছু মানুষ নিজেরাই ঝামেলা তৈরি করে সেটাকে রাজনৈতিক নিপীড়ন হিসেবে প্রচার করছে। কিন্তু এখন আমরা আর সহজে গুজবে বিশ্বাস করি না। তথ্য যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিই।” চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিম উদ্দিন শামছু বলেন, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে সহানুভূতি আদায়ের উদ্দেশ্যে এমন নাটকীয় ঘটনার নজির রয়েছে। তবে এবারের ভোটাররা অনেক বেশি সচেতন, শিক্ষিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে অভ্যস্ত। ফলে তারা সহজে বিভ্রান্ত হচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার নির্বাচনী সংস্কৃতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তাঁর মতে, মিথ্যা গুজব ও নাটকের আশ্রয় না নিয়ে প্রার্থীদের উচিত কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করা।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :