• জাতীয়

    হাকিমপুর থানা ওসি জাকির হোসেনের নেতুত্বে ৭ মাসে গ্রেফতার ৪৫২ জন।।

      প্রতিনিধি 19 August 2026 , 2:57:02

    মাহবুব হোসেন মেজর, দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

    দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা হাকিমপুরের হিলি পৌর, ডাযাগাপাড়া ( খট্রা), বোয়ালদাড় ও আলিহাট ইউনিয়নের মাদকের বিস্তার ঠেকাতে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। মাদক বহনকারী ও সেবনকারীদের পাশাপাশি এর নেপথ্যে থাকা সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পুলিশের এমন ধারাবাহিক অভিযানে এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা কমে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযান আরও জোরদার ও নিয়মিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। হাকিমপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ৮৬টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মাদকসেবন ও মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৫২ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাদক সংশ্লিষ্ট মামলায় ২৪২ জন এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ২১০ জনকে আটক করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, হাকিমপুর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার অনেক। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপস করা উচিত নয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী বলেন, মাদকসেবীদের শনাক্ত করতে পরীক্ষার জন্য একটি ডিভাইস কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মাদকসেবীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং হিলির মাদক প্রবণতা আরও কমবে। উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের চলমান মাদকবিরোধী কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমানে হিলিতে মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। অভিযান অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে। হাকিমপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী বলেন, শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের একার পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। ২নং বোয়ালদাড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ নাজমুল হক বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পুলিশের কঠোর তৎপরতার কারণে আগের তুলনায় গ্রামগঞ্জে মাদক পাওয়া অনেক কঠিন হয়েছে। তবে যারা এখনও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হাকিমপুর থানা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় হিলিতে মাদকের সহজলভ্যতার বিষয়টি মাথায় রেখে শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মাদকের সঙ্গে যারই সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী সভা ও সেমিনার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে নিতে কেউ সুপারিশ বা তদবির করলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ্ বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় হাকিমপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু খুচরা বিক্রেতা বা সেবনকারীদের আটক নয়, মাদকের সরবরাহ ব্যবস্থার মূল হোতাদের শনাক্ত করাই পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সচেতন সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে হিলিতে মাদকের বিস্তার আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে মাদক পুরোপুরি নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের প্রত্যাশা, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :