প্রতিনিধি 10 July 2026 , 7:43:52
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


টানা অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে নদীতীর ধসে একের পর এক বসতঘর, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। একই সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অন্যদিকে মৌসুমি সবজি, আউশ ও আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে প্রায় দুই শতাধিক পুকুরের মাছ। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার সোনাই ও কাষ্টি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বহরা, চৌমুহনী, শাহজাহানপুর, ছাতিয়াইন, বুল্লা, বাঘাসুরা ইউনিয়ন এবং পৌরসভার একাংশ প্লাবিত হয়। ৮ জুলাই বুধবারও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় নদীতে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী জসিম মিয়া বলেন, প্রতি বছরই নদীভাঙন হয়, তবে এবার পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। নদীগর্ভে চলে গেছে আবাদি জমির বড় অংশ। মাথা গোঁজার ঠাঁই ও জীবিকার উৎস—দুটিই হারিয়ে মানুষ দিশেহারা। নদীভাঙনের কারণে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সড়কে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌসুমি সবজি, আউশ এবং আমনের বীজতলার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করছেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু আসাদ ফরিদুর রহমান জানান, উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে গেছে। চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান সোহাগ বলেন, নদীভাঙনে একাধিক গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আল রনি বলেন, হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. ফয়সলের নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ত্রাণ তহবিল থেকে জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

















