প্রতিনিধি 29 June 2026 , 7:59:10
মোঃ আবুল কাশেম, জেলা প্রতিনিধি,:


ভোলার একজন বালিদস্যূ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার চেয়েও বেশি পায়। তাই বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি না হয়ে ভোলা জেলার অনেকেই ভোলার বালিদস্যূ হওয়ায় মনোনিবেশী হয়েছে। ভোলা জেলার বালিদস্যূ বাহিনী দমনে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ ও ভোলার সমুদ্রে সামরিক এয়ারবেইজ প্রয়োজন। ভোলার একজন বালিদস্যূ ঘন্টায় কমপক্ষে তিন হাজার টাকা ইনকাম করে, যা এক দিনে চব্বিশ হাজার টাকা দাঁড়ায়, মাসে সাত লক্ষ বিশ হাজার টাকারও বেশী। ইহা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ও সুযোগ-সুবিধার চেয়েও বেশি। ভোলা জেলার ভোলা খেকো বালিদস্যূ হতে ভোলাকে রক্ষার জন্য হয়- ভোলা-বরিশাল ব্রীজ না হয়- ভোলার সমুদ্রে স্থায়ী এয়াবেইস নির্মান করতে হবে। ভোলা রক্ষার জন্য বালুদস্যূদের দৌরাত্মে ভোলা আর ভোলা দ্বীপপূঞ্জাঞ্চল থাকতে পারছে না। একদিকে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মানের দাবীতে উত্তাল সারা বাংলাদেশ। অপরদিকে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মান দেশের চলমান বাজেটের আওতায় নাকি জিটুজি বাজেটের আওতায়? ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মান প্রকল্প গ্রহনে এই ধরনে পাগলামী সংক্রান্ত নীতির টানাপোড়নের দেশীয় উন্নয়নের মধ্য দিয়ে চলমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির দূর্বলতার সুযোগে ভোলা জেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে বালি ও মাটি তুলে নেয়ার মধ্য দিয়ে সমগ্র তেঁতুলিয়া জুড়ে কোস্টগার্ডের অভিযানে শতাধিক বালিদস্যূর মধ্যে কোস্টগার্ডের আভিযানিক টিম মাত্র পনের জনকে ধৃত: করতে সক্ষম হয়েছে। বালিদস্যূরা এমনভাবে নদীত নেমেছে যেন পুরো ভোলা জেলাই নদীগর্ভে বিলীন করে দিবে। ইতিপূর্বেও ভোলায় এ ধরনের বাল্কহেড আটকের অভিযান চলেছিল। কিন্তু কোনভাবেই আটককৃত অবৈধ, বে-আইনী ও অসভ্য ড্রেজার, নাও, বোট, মেশিন চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয় নাই। ফলে আটকের দিন পনের পরে দেহ ব্যবসার নারীদেরকে কোষ্টগার্ডের আভিযানিক টীমের মনোরঞ্জনের জন্য লেলিয়ে দিয়েই যৌনবাসনার মনোরঞ্জন ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ, বে-আইনী ও অসভ্য ড্রেজার, নাও, বোট, মেশিন ছার করানো হয়ে থাকে। ভোলা খেকো ড্রেজার মেশিন বাহিনীকে এক কথায় বালিদস্যূ বলে। এই বালিদস্যূ বাহিনী ভোলা জেলার বিভিন্ন চরের মাটি ও বালি তুলে এক জায়গায় ভুর করে। সেই ভুর থেকে মানুষের কাছে খুচরা মূল্যে বিক্রি করে। বালি তোলে পঞ্চাশ পয়সা হারে লাভ পাওয়ার রেইটে। পাইকারি বিক্রি করে পাঁচ টাকা হারে। আর খুচরা বিক্রি করে বারো টাকা রেইটে। তাতে দেখা যায় যে, বালি উত্তোলনকারী একলক্ষ বালি উত্তোলন করলেই কাঁচা পঞ্চাশ হাজার টাকা লাভ। মাটি ও বালি দস্যূরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে দেড় হতে দুই ঘন্টায় এক লক্ষ সোয়া লক্ষ বালি ও মাটি তুলে ফেলে কাঁচা পঞ্চাশ হাজার হতে ষাট হাজার নগদ টাকা লাভ করে বা আয় করে ফেলে। সেই টাকাটা আবার পাঁচ বা ছয় জনে ভাগ করে নেয়। তাতে বালি দস্যূরা ঘন্টায় মাথা পিছু তিন হতে পাঁচ হাজার টাকা লাভ করে। আর পাইকারী ক্রেতারা ঐ বালি-ই পাঁচ টাকা দরে ক্রয় করে। বিক্রেতারা আড়াই লক্ষ হতে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা লাভ করে। যা ঐ দেড় হতে দুই বা আড়াই ঘন্টায় দস্যূদের ক্যরিশমায় ঘটে থাকে। পাঁচ টাকার দরের উক্ত ক্রয়কৃত বালি, বালি ব্যবসায়ীরা সারা বছর খুচরা বারো টাকা হারে বিক্রি করে। এহেন বালি উত্তোলনকারীদের মোটাতাজা অংকের লাভের আশায় নদীর মাটি ও বালি উত্তোলন করতে গিয়ে পুরো ভোলা জেলা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা চলমান হয়েছে। আর বালিদস্যূদের এই বালি উত্তোলনের নামে নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ভোলা খেকোগিরী একবার ভোলা জেলার উত্তরে ঘটে, আবার মধ্য ভোলায় ঘটে আবার শোনা যায় দক্ষিণ ভোলায় কোষ্টগার্ডের অভিযানে বালিদস্যূ ধরা পরেছে। অর্থাৎ, বালি ব্যবসায়ীদের টাকার যোগানদানের আলামতের মাধ্যমে বালিদস্যূরা যখন যেই এলাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দূর্বল মনে করে ও নিজেদের করায়ত্ব মরে করে, ভোলা জেলার সেই এলাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি ও বালি নিয়ে যায়। প্রকারান্তরে ভোলা জেলার উপকূলীয় এলাকাগুলো নদী গর্ভে বিলীন করে দেয়। তাই বর্তমান জেলার উপজেলা ভিত্তিক ভাগাড়ের আইন শৃংখলা বাহিনী দিয়ে ভোলা জেলার মূল ভূ-খন্ড রক্ষা করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের চৌষট্রি জেলা ভিত্তিক ভাগাড়ের আইন-শৃংখলা বাহিনী দিয়ে ভোলা জেলার ভূ-খন্ড বালিদস্যুদের হাত থেকেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। যেমন- নদীতে একযোগে ত্রিশ-চল্লিশটি ড্রেজার মেশিন নামে। শতাধিক বালির জাহাজ বালি বহনে নামে। দশ বারো ঘন্টা ড্রজিংয়ের পর কোস্টগার্ডের কাছে মাটি ও বালিদস্যূতার খবর পৌছে। কোষ্টগার্ডও আরো বারো-তের ঘন্টা পরে অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বালিদস্যূ দমনের অভিযানে নামতে নামতে ও কোষ্টগার্ডের হানিমুন ভাঙ্গতে আরো আট-নয় ঘন্টা চলে যায়। ইতিমধ্যে বালিদস্যূদের ঐ দিনের বালিদস্যূগিরী প্রায় সমাপ্তির পথে থাকে এবং তাদের (বালিদস্যূদের) হানিমুনে রওয়ানা দেওয়ার সময় হয়ে যায়। তখন কোষ্টগার্ড নদীতে বা বালিদস্যূতার উপকূলীয় এলাকায় বালিদস্যূ দমনের জন্য নাটকীয় হানা দেয়। এই ধরনের বিলাসী অভিযানের নাটকে দশ বারো জন বালিদস্যূ ধরা পরে। অন্যরা সব দ্রুত সটকে পরে। এছাড়াও বালিদস্যূদের অধিকাংশরাই ভোলা জেলার প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বালিদস্যূগিরী করে থাকে। তাই বলা চলে যে, তারা মূলত: ভোলা জেলার একটা মাস্তান বাহিনী, লাঠিয়াল বাহিনী বা দস্যূ বাহিনী কিংবা সন্ত্রাসী বাহিনী। তারা অতিসত্বর মালপানি দিয়ে তাদের আটককৃত বালিদস্যূদেরকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তাই এহেন বালিদস্যূতা হতে ভোলা জেলাকে রক্ষার জন্য ভোলা-বরিশাল ব্রীজ নির্মান করা অতীব প্রয়োজন। কারন- ভোলা জেলায় বালিদস্যূদের বিরুদ্ধের অভিযানে কিংবা আইনশৃংখলা বাহিনীর যেকোন অভিযানে, ভোলাতে জেলা ভিত্তিক ও উপজেলা ভিত্তিক ভাগাড়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে সক্রিয়, শক্তিশালী ও নিরাপদ করার জন্য তাৎক্ষিণিকভাবে পাশ্ববর্তী জেলার আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংযোগায়নের জন্য ভোলা-বরিশাল ব্রীজ অতীব প্রয়োজন। নতুবা ভোলা জেলার আইন-শৃংখলা বাহিনী ও ভোলা জেলা কোনভাবেই ভোলা জেলায় নিরাপদ নয়। তবে ভোলা-বরিশাল ব্রীজ ব্যতীত ও ভোলা জেলার পার্শ্ববর্তী জেলার আইন-শৃংখলা বাহিনীর সংযোগায়ন ব্যতীত ভোলা জেলার আইনশৃংখলা বাহিনী ও ভোলা জেলার নিরাপত্তার জন্য ভোলা জেলার বঙ্গপোসাগরে সামরিক এয়ারবেইস নির্মান বা অবতরন ছাড়া ভোলা জেলার সন্ত্রাসবাদ ও দস্যূবাদ কমানো সম্ভব নয়। ভোলা জেলার চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নের বালিদস্যূর চীফ অফ কমান্ড নাজিম সিকদারের সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে, বালিদস্যূ লোকমানের মাসিক যেই পরিমান ইয়াবা ট্যবলেট লাগে তার সেই টাকাই তো কোন কোন মাসে সাতাইশ আঠাইশ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। উক্ত টাকার সমপরিমান পরিশ্রম সে আমার বালির ব্যবসায় দিয়ে থাকে। তার শরীরে ঐ ইয়াবার যৌন উত্তেজনা যেই নারীর উপর বিনিয়োগ করে বা প্রয়োগ করে তাকে প্রতিদিন কত হাজার টাকা করে দেয় তার হিসেব কে রাখে? ঐ লোকমানের খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল যে, সে ঐ থানার এওয়াজপুরের দুই নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। বালিদস্যূতার গরম টাকার তাপে ও ভাপে তাকে শশীভূষণ থানা পুলিশও গ্রেফতার করে না। ঐ লোকমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে জানা গেছে যে, ঐ লোকমান গ্যাং এর প্রয়োজনীয় ইয়াবা ট্যবলেটের চালান দেশের বাইরের থেকে কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দা ও দেশের স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগিনার মাধ্যমে নাজিম সিকদারের কাছে আসে। ছবিতে- কোস্টগার্ডের আটককৃত বালি দস্যূ বাহিনী ও ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ী রফিক কয়ালের বর্তমান জেলা জেলখানা ইনচার্জ সাহাবুদ্দিন মেম্বার।
















