• জাতীয়

    কক্সবাজারে র‌্যাব–১৫-তে বড় ধাক্কা: অধিনায়কসহ তিন শতাধিক সদস্য একযোগে বদলি

      প্রতিনিধি 29 November 2025 , 11:34:49

     

    মোহাম্মদ শফিক স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার:

    কক্সবাজার–বান্দরবান উপকূল জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য আলোচিত র‌্যাব–১৫ এবার অন্য কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইউনিটটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে র‌্যাব সদর দপ্তর। সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানে তথ্য বিভ্রাট, ইয়াবা উদ্ধারে অনিয়ম ও আচরণগত অসঙ্গতির তদন্তের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে র‌্যাবের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

    র‌্যাব মিডিয়া উইং অবশ্য পুরো ঘটনাটিকে নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া বলে ব্যাখ্যা করছে।

    সদর দপ্তর থেকে পাওয়া তিনটি প্রজ্ঞাপন বলছে, ১৯ নভেম্বর দুই দফায় ৩৯৮ জন ও ২৭ নভেম্বর তৃতীয় দফায় আরও ৭৪ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। বিশ্লেষণে দেখা যায়—এই বিপুল সংখ্যক সদস্যের মূল অংশই ছিল র‌্যাব–১৫-তে। একই ইউনিট থেকে এত বড় আকারের স্থানান্তর দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইতিহাসে খুব কমই দেখা গেছে।

    এক বছর দায়িত্ব পালনের পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসানকে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তার স্থানে আসছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি—করোনাকালে যশোর সেনানিবাসের ৩৭ বীরের দায়িত্বে থাকা একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

    র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বদলি তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ। তবে অনিয়মের অভিযোগ পেলে সেটি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়।

    অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি—সেপ্টেম্বরের দুটি অভিযানে বেশ কিছু অসঙ্গতি সদর দপ্তরকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করে। ৭ সেপ্টেম্বর কুতুপালংয়ে দুই নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ গোপন ও মামলায় ভুল তথ্য সাজানোর অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। ঘটনাটি তদন্তে একটি দল সেখানে যায়।

    ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় আরও একটি অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—শীর্ষ মাদক কারবারি জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে “জব্দ” দেখানো হয় কেবল কিছু ইটের টুকরা আর কাঠের লাঠি। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র সমালোচনা তোলে। এসব অভিযানে নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান। তার ঘনিষ্ঠ কর্পোরাল ইমামকেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বিতর্কের কেন্দ্রে দেখছেন।

    র‌্যাব জানাচ্ছে—অনিয়ম, আত্মসাৎ বা তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট যে কাউকেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। তদন্ত এখনো চলমান।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :