প্রতিনিধি 7 March 2026 , 6:35:13
নিজস্ব প্রতিবেদক, ডেমরা:


ঢাকা: রাজধানীর ডেমরা থানাধীন হাজী বাদশা মিয়া রোড এলাকায় এক দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি আবাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝে নেওয়ার আর্থিক হিসাব সম্পন্ন না করেই জোরপূর্বক দখলচেষ্টা এবং বাধা দেওয়ায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) কর্মকর্তাদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ মার্চ দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেমরা থানাধীন হাজী বাদশা মিয়া রোডের ৫ নম্বর এলাকায় ‘বসতবাড়ী রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’-এর একটি ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। উক্ত প্রকল্পের ৭ম তলায় একটি ফ্ল্যাট বরাদ্দ নিয়েছিলেন শফিউল আলম নামে এক গ্রাহক। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ফ্ল্যাটটি হস্তান্তরের উপযোগী হওয়ায় শফিউল আলমকে চূড়ান্ত আর্থিক হিসাব চুকিয়ে ফ্ল্যাটটি বুঝে নিতে বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি পাওনা পরিশোধ না করে টালবাহানা শুরু করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে শফিউল আলমের পক্ষে কথিত বি এন পির নেতা নূর আলম ওরফে ‘নুরা পাগলা’র নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী প্রজেক্টে অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রজেক্টের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নির্মাণ সামগ্রী তছনছ করে প্রায় ২০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি সাধন করে।
রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও প্রাণনাশের হুমকি:
হামলার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল হক (৫৭) ও অন্যান্য পরিচালকগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বয়োবৃদ্ধ এমডি ফজলুল হকসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বেধড়ক মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটাসহ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ফ্ল্যাটটি অবৈধভাবে দখল করার এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আইনি পদক্ষেপ:
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী ফজলুল হক বাদী হয়ে ডেমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দায়ের করেছেন। এতে শফিউল আলম, নূর আলম ও গফুরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষক মন্তব্য:
নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পে এ ধরনের প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতন আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দেয়। একটি ব্যবসায়িক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক সমাজ এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছে।

















