• জাতীয়

    উত্তাল নারায়ণগঞ্জ: ‘ফ্যাসিস্ট দোসর’ স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ, তোপের মুখে ভবনবন্দি এমপি

      প্রতিনিধি 6 March 2026 , 9:40:01

    নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :

    শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক আকাশে দীর্ঘ দেড় দশকের গুমট মেঘ এখন গণরোষের বজ্রপাতে রূপ নিয়েছে। গতকাল ৫ মার্চ ২০২৬, নগরীর একটি জনাকীর্ণ এলাকায় আওয়ামী লীগ ঘরানার এক সংসদ সদস্যকে (এমপি) ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এই ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির অবরুদ্ধ হওয়া নয়, বরং বিগত ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসন এবং জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতির বিরুদ্ধে এক পঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনার বিবরণ: রাজপথে জনতার আদালত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে সংশ্লিষ্ট এমপি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এলে পরিস্থিতি মুহূর্তেই বদলে যায়। স্থানীয় ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ তাকে দেখা মাত্রই চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ে—‘ফ্যাসিস্টের দোসর আসছে’। শয়ে শয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে এসে স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এমপি দ্রুত পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। উত্তেজিত জনতা ভবনটি ঘিরে ফেলে এবং স্লোগান দিতে থাকে—‘এক দফা এক দাবি, ফ্যাসিবাদের ঠাঁই নাই’। প্রায় কয়েক ঘণ্টা তিনি সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন। জনরোষের নেপথ্যে: দুঃশাসনের বিষবৃক্ষ কেন এই ঘৃণা? কেন এই প্রতিরোধ? ডি.এম. মাসুদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান কারণ: ১. ভোট ডাকাতি ও দমন-পীড়নের বিচার: নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভুলে যায়নি কীভাবে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ভোট ডাকাতি, গুম ও খুনের যে সংস্কৃতি আওয়ামী লীগ এ শহরে কায়েম করেছিল, এই এমপিকে তার অন্যতম নেপথ্য কারিগর ও সুবিধাভোগী মনে করে সাধারণ মানুষ। ২. জবাবদিহিতাহীন দম্ভ: ক্ষমতার মদমত্ততায় গত ১৫ বছর যারা সাধারণ মানুষের কথা শোনেনি, আজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা জনতার আদালতের মুখোমুখি। জবাবদিহিতার অভাবে সৃষ্ট দম্ভই আজ তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৩. ক্যাডার রাজনীতির অবসান: নারায়ণগঞ্জকে যারা দীর্ঘকাল নিজেদের ‘জায়গির’ মনে করে দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে শাসন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এটি একটি প্রতীকী গণ-অভ্যুত্থান। জনতা আজ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—ফ্যাসিবাদের কোনো দোসরকে এ মাটিতে আর ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনের অসহায়ত্ব ও গণবিস্ফোরণ অবরুদ্ধ এমপিকে উদ্ধার করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে। উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে তাকে উদ্ধার করতে পুলিশকে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। উপস্থিত এক আন্দোলনকারী বলেন, “এগুলো কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ১৫ বছরের জমানো যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ। স্বৈরাচারী হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে যারা হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে, তাদের বিচার রাজপথেই হবে।” রাজনীতির নতুন মেরুকরণ এই ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী রাজনীতিতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দলটির অনেক শীর্ষ নেতা এখন জনরোষের ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ প্রমাণ করে যে, ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ নির্মূলে দেশবাসী এখন কতটা সোচ্চার।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ

    নোটিশ :