প্রতিনিধি 17 January 2026 , 10:54:30


মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
বাংলার আধ্যাত্মিক সম্রাট হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর প্রধান সেনাপতি, সিলেট বিজেতা ও তরফ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.)–এর মাজার শরীফের ৭০৫তম পবিত্র ওরশ মোবারক উপলক্ষে মাজার শরীফে গিলাফ প্রদান ও জিয়ারত করেছেন হবিগঞ্জ–৪ (চুনারুঘাট–মাধবপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব এস. এম. ফয়সল সাহেবের সুযোগ্য সন্তান (সায়হাম কটন মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মুরারবন্দ এলাকায় অবস্থিত সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.)–এর মাজার শরীফে তিনি গিলাফ প্রদান করেন। পরে জিয়ারত শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ লিয়াকত হাসান, সৈয়দ বজলুর সেলিম, সৈয়দ শাকেরুল হাসান, সৈয়দ শওকতুল হাসান, খান্দুরা হাবেলীর সৈয়দ আহমদ বখত মতিন, মাজার কমিটির সভাপতি শিল্পপতি আব্দুল মালেক জাপানী, সৈয়দ লিমন মিয়া, সৈয়দ মঈনুদ্দীন চিশতী ওলী মিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে মাজার শরীফের খাদেম সৈয়দ মুরাদ আহাম্মদ চিশতী দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
ইতিহাস অনুযায়ী, সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.) ছিলেন হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর অন্যতম সঙ্গী ও অনুসারী। জীবনীগ্রন্থসমূহের তথ্যমতে, আনুমানিক ১২৫০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জন্ম এবং হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর ওফাতের পূর্বে (১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দের আগে) তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনি হযরত আলী (রা.)–এর বংশধর এবং হযরত ইমাম হুসাইন (রা.)–এর বংশানুক্রমে সৈয়দ পরিবারের সন্তান। আরবের বাগদাদ নগরীতে তাঁর জন্ম। তৎকালীন আব্বাসীয় রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর বংশের আত্মীয়তা ছিল। পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে তিনি ভারত উপমহাদেশে আগমন করেন।
পরবর্তীতে দিল্লির সুলতানের অধীনে সৈনিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিপাহসালার পদে উন্নীত হন। রাজা গৌড় গোবিন্দের নির্যাতিত মুসলমানদের সহায়তায় সিলেট অভিযানের নেতৃত্ব দেন তিনি। পথে সোনারগাঁওয়ে সিকান্দর গাজীর সঙ্গে এবং ত্রিবেণীতে আরব থেকে আগত প্রখ্যাত আউলিয়া হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। দিল্লির সুলতানি আদেশে শাহজালাল (রহ.) ও সিকান্দর গাজীর সম্মতিক্রমে তিনি সিলেট অভিযানের সেনাপতি নিযুক্ত হন।
সিলেট বিজয়ের পর ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দে শাহজালাল (রহ.)–এর নির্দেশে বারোজন আউলিয়া নিয়ে তিনি তরফ রাজ্যে গমন করেন। তরফের অত্যাচারী ত্রিপুরা রাজা আচানক নারায়ণ আউলিয়াদের আগমনের সংবাদ পেয়ে বিনা যুদ্ধে রাজ্য ত্যাগ করলে তরফ রাজ্য সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহ.)–এর অধিকারে আসে। এ কারণে অঞ্চলটি ‘বার আউলিয়ার মুলুক’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
পরবর্তীতে তিনি তরফ রাজ্যের শাসনভার গ্রহণ করে লস্করপুরে অবস্থান করে রাজ্য পরিচালনা করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি সিলেটে গিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর পূর্বেই পরলোক গমন করেন বলে ঐতিহাসিকদের অভিমত।

















