প্রতিনিধি 28 December 2025 , 10:19:40


স্টাফ রিপোর্টার :
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ও আশপাশের এলাকায় জমি জোরপূর্বক দখল, মামলা-হামলার ভয় দেখানো এবং প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে সানা উল্লাহ ও তার ভাই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে তারা এলাকায় দখলবাজি ও নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবু জাহিরের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সানা উল্লাহ ও জাকারিয়া গরিব, নিরীহ মানুষ এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের জমি জোরপূর্বক দখল করে আসছেন। জমি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে মামলা, হামলা ও প্রশাসনিক হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এক সময় ডিম বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত এই দুই ভাই বর্তমানে শিল্পপতি বনে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দখলকৃত জমির ওপর তারা ‘কাকো কেমিক্যাল (Caco Chemical)’ ও ‘জাজ (ZAZ)’ নামে শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছেন। এখনো কিছু আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, প্রভাবশালী সাংবাদিক এবং প্রশাসনের একটি অংশকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দখল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এ বিষয়ে ছাতিয়াইন আলাকপুর গ্রামের ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম বলেন,
“ছাতিয়াইন–রতনপুর সড়কের দক্ষিণ পাশে কোম্পানির সংলগ্ন এলাকায় আমি মাছ চাষের উদ্দেশ্যে কিছু জমি ক্রয় করি। খালঘেঁষা সুভাষ দাসের আড়াই কানি (প্রায় ৭৫ শতক) জমি জাকারিয়া ক্রয় করেন। তার আগে জাহেদের ৩৮ শতক, দক্ষিণে আমার বোনজামাই আব্দুল্লাহর ১৭ শতক এবং তার দক্ষিণে নিখিলের ১৭ শতক জমি আমি কিনি। জমি কেনার পর থেকেই জাকারিয়া আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। কখনো পুলিশ, কখনো র্যাব, আবার কখনো সেনাবাহিনীর ভয় দেখানো হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো—আমার ক্রয়কৃত জমির একটি অংশ জোর করে দখল নেওয়া।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,
“আমি মৌখিকভাবে আমার বোনজামাইয়ের কাছ থেকে যে জমি কিনেছিলাম, সেটিও জিম্মি করে অন্য জায়গায়—কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব হুমকি ও হয়রানির কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবিলম্বে দখলবাজি বন্ধ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। অন্যথায় ছাতিয়াইন ও মাধবপুরের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী কামরুল ইসলাম আরও বলেন,
“ন্যায় প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শহীদ ওসমান হাদি ভাই জীবন দিয়েছেন। যদি প্রশাসন আওয়ামী লীগের দোসর ভূমিখেকো জাকারিয়ার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমিও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অন্যায়ের প্রতিবাদ করে হাদির মতো হাসতে হাসতে শহীদ হতে প্রস্তুত।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাকারিয়া চৌধুরী বলেন,
“আমার এবং আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

















