প্রতিনিধি 21 November 2025 , 6:20:36
ইস্রাফিল খান, গোপালগঞ্জ (জেলা) প্রতিনিধি:


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মেলায় দোকানদারদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা শুকরঞ্জন ওরফে ধলুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
কার্তিক পূজা উপলক্ষে গত ১৮ নভেম্বর থেকে স্থানীয়ভাবে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার শেষ দিন ২১ নভেম্বর। তবে বিদ্যালয় মাঠে মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
ফেসবুকে মেলায় চাঁদাবাজির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়—সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ি মেলা আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকরঞ্জন ওরফে ধলুর নেতৃত্বে ৬–৭ জনের একটি দল দোকানপ্রতি ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সটকে পড়ে।
এদিকে জেনারেটরের খরচ বাবদ দোকানপ্রতি ৩০০ টাকা করে তুলছেন শুকরঞ্জনের ছেলে ও ছাত্রদল নেতা উত্তম টাকা—এমন অভিযোগও করেছেন দোকানদাররা।
মেলায় আগত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন—জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
ফুচকা ও চটপটির দোকানদার পুলিন মৃধা বলেন, “আমার দুই দোকান থেকে মোট ৫,৫০০ টাকা চাঁদা নিয়েছে। না দিলে দোকানে হামলা করে। প্রায় দেড়শ দোকান আছে—প্রতিটা থেকে জোর করে টাকা তোলে। আমরা অসহায়।”
কসমেটিকস বিক্রেতা আকাশ অধিকারী বলেন, “২৬ বছর ধরে এই মেলায় আসি, কখনো এমন অরাজকতা দেখিনি। আগে অনুষ্ঠান হতো—ব্যবসায়ীরা খুশি হয়ে কিছু দিতো। এখন জোর করে ৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে বিএনপি নেতা ধলু টাকা ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক বাসুদেব টাকাসহ কয়েকজন।”
চায়ের দোকানদার লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন,
“প্রথম এসেছি—কিন্তু আর আসবো না। সামান্য দোকান থেকেও ৫৫০ টাকা নিয়েছে। জেনারেটরের জন্য ধলুর ছেলে উত্তম আরও ৩০০ টাকা চাইছে। টাকা না দিলে মালামাল নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে।”
সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে মেলা আয়োজন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুকরঞ্জন ও বিএনপি ঘরানার অন্য সংশ্লিষ্টরা সটকে পড়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।
সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ গাইন বলেন,
“ফেসবুক ভিডিওতে শুকরঞ্জনকে দোকান থেকে টাকা তুলতে দেখেছি। খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ত
নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন বিশ্বাস বলেন,
“মেলা আয়োজনের জন্য আয়োজক কমিটি আমার কাছে আবেদন দিয়েছিল। তারা জানিয়েছিল পুলিশের অনুমতি রয়েছে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন,
“স্কুল মাঠে মেলার বিষয়ে জানি না। স্কুল মাঠে মেলা বা সমাবেশ করতে হলে ইউএনওর অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
ভাঙ্গারহাট নৌ–পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক এমদাদুল হক বলেন,
“মেলার জন্য পুলিশের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এবারের মেলায় চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ ছাড়া কিছু করার নেই।”
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন,
“নৈয়ারবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে মেলা আয়োজনের জন্য কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেলা করতে হলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”

















