প্রতিনিধি 26 August 2026 , 2:03:08
এম এ কাদের, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস পালিত হয়েছে। ২৬ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টায় মাধবপুর উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা পাক দরবার শরীফের পীরজাদা আলহাজ সৈয়দ জুবায়ের কামাল পীর সাহেব ও পীরজাদা আলহাজ সৈয়দ শরিফুর রহমানের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস বের করা হয়। এতে মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহজাহান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ও মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে জশনে জুলুসে অংশ নেন আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ, ইমাম-মুয়াজ্জিন, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জশনে জুলুসটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় দরুদ শরিফ পাঠ ও ইসলামী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মাধবপুরের বিভিন্ন সড়ক ও জনপদ। সুশৃঙ্খল এ জুলুসকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও শান্তির দূত। তাঁর জীবনাদর্শে ন্যায়বিচার, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও মানবতার শিক্ষা রয়েছে। সমাজ থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর করতে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা আরও বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর শিক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও আদর্শ ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও চরিত্র সম্পর্কে জানার এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গড়ার আহ্বান জানান তারা। দিনব্যাপী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মাধবপুরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুসের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হয়।

















