প্রতিনিধি 18 August 2026 , 10:30:13
এম এ কাদের, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জের মাধবপুরে এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক (প্র্যাকটিকেল) পরীক্ষার খরচের কথা বলে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে উপজেলার আরেকটি কলেজের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না। জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মাধবপুর শাহজালাল সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার খরচ বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কলেজটির দুই শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা বলেন, বহিরাগত পরীক্ষকদের আপ্যায়ন, যাতায়াত ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের অর্থ আদায়ের প্রচলন রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। এ বিষয়ে শাহজালাল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এক্সটার্নালদের আপ্যায়ন, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য খরচের জন্য এই টাকা নেওয়া হয়। বিষয়টি বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই জানেন।” অন্যদিকে, মাধবপুরের সৈয়দ সঈদ উদ্দীন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ৩২ জন ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং তিনজন অংশ নেননি বলে জানান কলেজটির অধ্যক্ষ জহীর উদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদের কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয় না।” এদিকে, মাধবপুরে ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা লেখা ও চিত্রাঙ্কনের জন্য ‘প্র্যাকটিকেল মেকার’ নামে একটি অনলাইনভিত্তিক পেইজ পরিচালিত হচ্ছে। পেইজটির পরিচালক ইশতিয়ার জানান, ব্যবহারিক খাতা লেখা ও আঁকার জন্য প্রতি খাতায় ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। কতজন শিক্ষার্থী তাঁর কাছ থেকে এ সেবা গ্রহণ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “অনেক পরীক্ষার্থীই প্র্যাকটিকেলের খাতার কাজ করাতে আসেন।” কাজের চাপ বেশি হলে দ্রুত সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করা হয় বলেও জানান তিনি। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অর্থ আদায়ের বৈধতা, ওই অর্থের ব্যবহার এবং শিক্ষা বোর্ডের কোনো অনুমোদন রয়েছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে প্রত্যাশা করেছেন সচেতন মহল।

















