ডেমরা থানা প্রতিনিধি:
রাজধানীর ডেমরায় মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন করতে গিয়ে সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন ডেমরা থানা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম সুমন। গত ৪ জুলাই দিবাগত রাতে ডেমরার সারুলিয়ার টেংরা আলেপখান রোড এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে ডেমরা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, লিটন ওরফে কাইল্লা লিটন, মনা, বিল্লাল, রাজু, আশরাফ, আলম, মিলন, ইন্দ্র, ডিজে জাহাঙ্গীর, সবুজ ও কবির।হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এস এম শাহ আলম-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজকে মাদকমুক্ত করার মতো একটি মহৎ সামাজিক উদ্যোগ নিতে গিয়ে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের এভাবে রক্তাক্ত হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে মূল হোতাসহ সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এবং আসামিদের ফাঁসির দাবিতে ডেমরা থানা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ডেমরার বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুব-শক্তি সামাজিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান জনাব মো: রাসেল সরকার। তিনি বলেন, সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছেন, তাদের ওপর এমন সশস্ত্র হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ক্ষোভের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি—হামলার পর এতগুলো দিন পার হয়ে গেলেও কেন প্রধান আসামিদের সবাইকে এখনো গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? জাহাঙ্গীর হোসেনের দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি—লিটন ওরফে কাইল্লা লিটন, মনা, বিল্লাল, রাজু, আশরাফ, আলম, মিলন, ইন্দ্র, ডিজে জাহাঙ্গীর, সবুজ ও কবিরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য আমি ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা সাহেবের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানাচ্ছি।
এই ঘটনার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডেমরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা জানান, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ তৎপর ভূমিকা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ ডেমরাসহ আশপাশের এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।”