প্রতিনিধি 23 April 2026 , 11:08:22
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এক প্রসূতির গর্ভের শিশুর মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ‘মাধবপুর উপজেলার ৫০ ভাগ মানুষ অজমূর্খ্য’ মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের ভুড্ডা গ্রামের বাসিন্দা মো. জহিরুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. সেলিনা বেগম (১৯) গর্ভাবস্থাজনিত জটিলতা নিয়ে “দি ল্যাব এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড হাসপাতালে” চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে চিকিৎসক ডা. ফিরোজ আহমেদ আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে গর্ভের শিশু সুস্থ আছে বলে জানান এবং কিছু ওষুধ দেন। পরিবারের দাবি, বাড়িতে ফিরে ওই ওষুধ সেবনের পরদিন সকালে সেলিনা বেগমের ব্যথা শুরু হলে তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, গর্ভের শিশুটি মারা গেছে। পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মৃত শিশুটি প্রসব করানো হয়। বর্তমানে সেলিনা বেগম ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ভুল চিকিৎসার কারণেই গর্ভের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রসূতির স্বজন মো. সজিব মিয়া বলেন, “আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার খরচ বহনের আশ্বাস দিলে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।” অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক ডা. ফিরোজ আহমেদ বলেন, “আমার চিকিৎসায় কোনো ভুল নেই। কেউ প্রমাণ করতে পারলে আমি যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।” তবে তিনি বলেন, “আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মাধবপুর উপজেলার ৫০ ভাগ মানুষ অজমূর্খ্য।” চিকিৎসকের এই মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের মো. রাসেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিকিৎসকের মন্তব্য প্রসঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। মাধবপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “মাধবপুরে শিক্ষার হার উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত। এমন একটি এলাকায় দায়িত্বশীল একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।” মাধবপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনে চৌধুরী বলেন, “একজন পেশাজীবী হিসেবে জীবিকার প্রয়োজনে এখানে এসে স্থানীয় জনগণ সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। মাধবপুরবাসীকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।” ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

















