(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জ–৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রচারণায় নারী ভোটারদের মধ্যে অভূতপূর্ব জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এবার নারী ভোটারদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণের চিত্র নজিরবিহীন। বিশেষ করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সলের ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নারী ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নারী ভোটারদের অবহেলা করা হলেও এবার তাদের গুরুত্ব দিয়ে সংগঠিতভাবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার নারী ভোটার রয়েছে, যা এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, নারী ভোটারদের সচেতন করতে উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভা এবং চা বাগানভিত্তিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের নাগরিক অধিকার, ভোটের গুরুত্ব এবং সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হচ্ছেন। এতে শুধু একটি দলের লাভ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চুনারুঘাট উপজেলার হিমালিয়া, চণ্ডী, চানপুর, রামগঙ্গা, আমু ও সাতছড়ি চা বাগানে ধানের শীষের প্রচারণায় শত শত নারী ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় নারী ভোটাররা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলেন। অনেক নারী প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের দাবি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক নেত্রী খাইরুন আক্তার বলেন, “এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নারীদের মধ্যে যে নবজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। নারীরা এখন শুধু ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানছে এবং সাহসের সঙ্গে তা প্রকাশ করছে।” বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, “২৩টি চা বাগানের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে নারী সমাজ মারাত্মকভাবে অবহেলিত। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ এবং শিল্পপতি সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের উদ্যোগে চা বাগানের নারী সমাজ নতুন করে জেগে উঠেছে।” তিনি আরও বলেন, “আগে ভোট এলেও নারীদের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। ফলে অনেক সময় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি কম থাকত। কিন্তু এবার নারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তারা সরাসরি নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারছে, যা গণতন্ত্রের জন্য একটি শুভ লক্ষণ।” নোয়াপাড়া সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য শ্যামলী দেব বলেন, “নারী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রমুখী করতে আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করেছি। এতে তাদের মধ্যে নাগরিক দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে।” শিল্পপতি সৈয়দ শাফকাত আহমেদ ও সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “কোনো মানুষ বা জনগোষ্ঠীকে অবহেলা করা উচিত নয়। চা বাগানের মানুষ সহজ-সরল হলেও তারা রাষ্ট্রের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পরিকল্পিতভাবে তাদের দেখভাল করা এবং নতুন প্রজন্মকে কর্মমুখী শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা গেলে তারা দেশের জন্য অমূল্য জনসম্পদে পরিণত হবে।” তারা আরও বলেন, “এ কারণেই এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চা বাগানের নারী সমাজকে ভোটদানে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগে যেখানে ভোটের প্রতি অনীহা ছিল, এবার সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”