প্রতিনিধি 17 January 2026 , 5:44:02


মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধিঃ
যশোর শহরের টিবি ক্লিনিকপাড়ার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও একাধিক গুরুতর অপরাধের হোতা আলামিন (২৮) র্যাবের জালে গ্রেফতার হয়েছে। আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি ) সকালে শহরের পুলেরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন র্যাব-৬ ক্যাম্পের একদল চৌকষ সদস্য। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক আলামিন যশোর শহরের বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে।
র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আলামিনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে। তিনি আলোচিত তানভীর হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলেরহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন পর আলোচিত এক সন্ত্রাসী আটক হওয়ায় যশোর শহরের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া
সোলাইমান শিকদার নামে এক ব্যক্তি জানান-একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ আটক হওয়া নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে শুধু আটক নয়, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি আরও বলেন-মো,তহিদুর রহমান নাম এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে এত মামলা থাকা সত্ত্বেও এতদিন সে বাইরে ঘোরাফেরা করেছে—এটা ভেবে আতঙ্ক লাগে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবি ক্লিনিক পাড়ার এক ব্যক্তি জানান-আইনের শাসন না থাকায় আলামিনের মতো চিহিৃত সন্ত্রাসীরা ধরা পড়ে কিন্তু আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে অল্পদিনে ছাড়া পেয়ে যায়। তারা স্বাভাবিক জীবনে না ফিরে ফের পুরনো পেশায় জড়িয়ে পড়ে।
র্যাবের এই অভিযান প্রশংসনীয়। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় বড় অপরাধীরাও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়। এবার যেন তা না হয়। তিনি আরও বলেন-যশোরে সন্ত্রাস দমনে এমন অভিযান নিয়মিত হলে শহরের পরিবেশ অনেক নিরাপদ হবে। অস্ত্র উদ্ধার প্রমাণ করে সে কতটা ভয়ংকর ছিল।
পুলেরহাট এলাকার এক অভিভাবক অভিযোগে বলেন-আলামিন টিবি ক্লিনিক পাড়ার বাসিন্দা হলেও সে প্রায় সময় পুলেরহাটসহ আশপাশের এলাকায় থেকে অপরাধ কর্মকাণ্ড করে আসছিল। তার কারণে উঠতি বয়সের অনেক যুবক নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন-আমাদের সন্তানরা যেন আর সন্ত্রাসীদের ছায়ায় বড় না হয়, সেদিকে প্রশাসন ও অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে। আলামিনের মতো অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলস্টেশন এলাকার এক সচেতন নাগরিক পুলিশের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন- যার বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে, সে কিভাবে এতদিন বাইরে ছিল ? এই প্রশ্নের উত্তর না মিললে অপরাধ বন্ধ হবে না-মন্তব্য তার।
তিনি এইও বলেন-এই গ্রেপ্তার প্রমাণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে সব পারে। এখন প্রয়োজন বিচারিক ধারাবাহিকতা।

















