প্রতিনিধি 24 June 2026 , 11:46:22
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছ থেকে হাতকড়াসহ (হ্যান্ডকাফ) জুয়েল নামের এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার আট দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় ডিবির এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচ কনস্টেবলসহ মোট ছয় পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৫ জুন বিকেলে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে একটি ধানের জমি থেকে দেবনগর গ্রামের জুয়েলকে আটক করেন সাদা পোশাকে থাকা ডিবি পুলিশের সদস্যরা। আটক করার পর তাঁর হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হলেও স্থানীয় লোকজনের ধস্তাধস্তির সুযোগে তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েলকে আটক করার পরপরই তাঁর সঙ্গে ডিবি সদস্যদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাঁদের ছিনতাইকারী বা অপরিচিত দুষ্কৃতকারী মনে করে মারধর শুরু করেন। পরে ডিবি সদস্যরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা জুয়েলকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়েলকে পুনরায় গ্রেপ্তার এবং হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে আট দিন পেরিয়ে গেলেও হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মঘর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মামুন মিয়ার মধ্যস্থতায় হ্যান্ডকাফটি ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। ঘটনার দুই দিন পর, ১৭ জুন জেলা পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদ হোসেন, ইয়াকুব মিয়া ও মো. আলমগীর কবির এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার কনস্টেবল শরীফুল ইসলাম খান ও মো. সোহাগ মিয়াকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। ওয়ার্ড সদস্য মামুন মিয়া বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, ডিবি সদস্যরা সাদা পোশাকে থাকায় অনেকেই তাঁদের পরিচয় বুঝতে পারেননি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জুয়েলসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।” অন্যদিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, সদর থানার দুই কনস্টেবলের মধ্যে শরীফুল ইসলাম খান ঘটনার দুই দিন আগেই সদর থানা থেকে ডিএসবিতে বদলি হয়েছেন। আর কনস্টেবল সোহাগ মিয়া তাঁর জ্ঞাতসারে সেখানে যাননি। অনুমতি ছাড়া যাওয়ায় ওই দিন তাঁকে থানা হাজিরায় অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে। ওসি আরও বলেন, “ব্যক্তিগত কোনো কর্মকাণ্ডের দায় পুলিশ প্রশাসন নেবে না।” তবে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইনচার্জ মো. শামীম আহমেদ বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা তাঁর জানা নেই। ডিবির একজন এসআইসহ ছয় সদস্যকে প্রত্যাহারের পেছনে বিভিন্ন প্রশাসনিক কারণ থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে পলাতক মাদক কারবারি জুয়েলকে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের হ্যান্ডকাফটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















