প্রতিনিধি 10 June 2026 , 1:58:31
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :


বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি শিল্পখাত। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, সুতা, বস্ত্র ও রপ্তানিমুখী শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। জাতীয় বাজেটে শিল্পখাতের বিকাশে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এক শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, দেশের উৎপাদিত সুতা, কাপড়, তৈরি পোশাক ও অন্যান্য শিল্পপণ্য আরও বেশি পরিমাণে বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য রপ্তানিকারকদের জন্য সহজ ও সহায়ক নীতিমালা, কর-সুবিধা এবং প্রণোদনা অব্যাহত রাখা জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, শিল্পখাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হলে কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক ক্রেতাদের আস্থাও কমে যায়। তাই বাজেটে জ্বালানি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সহজ শর্ত ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এই শিল্প উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, জটিল প্রক্রিয়া, উচ্চ ব্যয় এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বাধার কারণে অনেক সময় উদ্যোক্তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। কাঁচামাল আমদানি সহজ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, সরকার যদি শিল্পবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করে এবং উৎপাদনমুখী খাতে উৎসাহ ও প্রণোদনা প্রদান করে, তাহলে দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। এর ফলে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, বেকারত্ব কমবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। শিল্পখাতের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। তাই আসন্ন বাজেটে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বাস্তবসম্মত সহায়তা ও কার্যকর নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। তাদের বিশ্বাস, একটি শিল্পবান্ধব বাজেট উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হবে।

















